প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 10, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 3, 2026 ইং
বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
জোরপূর্বক শ্রমে (ফোর্সড লেবার) উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগ এনে বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ প্রস্তাব প্রকাশ করেছে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর (ইউএসটিআর)।
ইউএসটিআরের মতে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যের বাজারজাতকরণ ঠেকাতে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাংলাদেশসহ ১৫টি দেশ ও অঞ্চলের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। এই তালিকায় রয়েছে কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, আর্জেন্টিনা, কম্বোডিয়া, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান, যুক্তরাজ্য ও ইকুয়েডরসহ আরও কয়েকটি দেশ।
এ ছাড়া বাকি ৪৫টি দেশের পণ্যের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ১২.৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউএসটিআর।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়া কোনো দেশের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। এর ফলে মার্কিন শ্রমিকরা বৈশ্বিক বাজারে অসাম্যপূর্ণ প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছেন।
তবে কিছু নির্দিষ্ট পোশাক ও বস্ত্রপণ্যের ক্ষেত্রে সীমিত পরিসরে কম শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশের সুযোগ রাখা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে ইউএসটিআর। যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
উল্লেখ্য, ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান সাময়িক শুল্ক ব্যবস্থার মেয়াদ আগামী ২৪ জুলাই শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে জরুরি ক্ষমতার আওতায় আরোপিত কয়েকটি শুল্ক বাতিল করে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। এরপর নতুন আইনি কাঠামোর অধীনে শুল্কনীতি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, প্রস্তাবটি কার্যকর হলে বাংলাদেশের রপ্তানি খাত, বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্প কিছুটা চাপের মুখে পড়তে পারে। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়; বাস্তবায়নের আগে আরও আলোচনা ও পর্যালোচনা হবে।
সূত্র: আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দেশ বাংলা টিভি নিউজ